লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গরুর মাংস ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নুরুল ইসলাম (৩২) নামে এক ক্রেতার ওপর মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) ও তার সহযোগীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নিতে ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগীর বাবা আবদুল হক(৬৫) বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে কমলনগর থানায় এজহার দিলে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।আসামীরা হলেন- মো.সাহেদ(২৫) তার বাবা বাহার(৪৫) ও দাদা তোফায়েল আহাম্মদ(৬৫)। তারা সবাই তোরাবগঞ্জ বাজারে নিজেদের মাংস ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম উপজেলার ১নং চর কালকিনি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড চরসামসুদ্দিন গ্রামের আবদুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মাংস কিনতে বাহার কসাইয়ের দোকানে যান নুরুল ইসলাম। মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত হাড় ও চর্বি দিয়ে এবং ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করেন তিনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কসাই বাহার, তার ছেলে সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে নুরুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত বাহার কসাই দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ক্রেতাদের জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ব্যবসা করছেন। তার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া, অতিরিক্ত দাম আদায়, নিম্নমানের মাংস বিক্রি এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ক্রেতাদের মারধরের ঘটনাও নতুন নয় বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত বাহার কসাই হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও সেটিকে সামান্য হাতাহাতি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাংস বিক্রির সময় কিছু চর্বি দেওয়া স্বাভাবিক। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছেলে রাগের মাথায় আঘাত করেছে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম কে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা হয়েছে আমি এভাবে বলতে পারিনা। আইনানুগ ব্যবস্থা যেটা নেওয়ার সেটা সর্বোচ্চ নেওয়া হয়েছে। এতোদিন পার হলেও সর্বোচ্চ কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গিয়েছি,আমার অফিসার গিয়েছে।আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
