এম এ এহসান রিয়াজ প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কসাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত নুরুল ইসলামের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাহাত উজ জামান। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা নুরুল ইসলামকে ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হচ্ছিল না,বিষয়টি জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ইউএনও।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আহত নুরুল ইসলামের পিতা আবদুল হকের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহতের ছোট ভাই মো. হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ মামলা নিলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের ধরছে না।
জানা যায়, গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে কসাই বাহারের দোকানে ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মাংস কিনতে যান নুরুল ইসলাম। মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত হাড়, চর্বি মেশানো এবং ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি নজরে এলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কসাই বাহার, তার ছেলে সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীরা নুরুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলা করে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নিতে ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করে কমলনগর থানা। ভুক্তভোগীর বাবা আবদুল হক(৬৫) ৩ জনকে আসামী করে থানায় এজহার দিয়েছেন।
আসামীরা হলেন- মো.সাহেদ(২৫) তার বাবা বাহার(৪৫) ও দাদা তোফায়েল আহাম্মদ(৬৫)। তারা সবাই তোরাবগঞ্জ বাজারে নিজেদের মাংস ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসাধীন আহতের ছোট ভাই মো. হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ মামলা নিলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।
হোসেন আরও বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে বোনের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছি। ইউএনও’র এই মানবিক সহযোগিতা আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসায় সহায়ক হবে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রাহাত উজ জামান বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা যেন বন্ধ না হয় সেজন্য সহযোগিতা করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলবো
