লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে এক গরুর রাখাল নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ধবলগুড়ি সীমন্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আলী হোসেন (৪০) পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। আলী হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও বড় ভাই আব্দুল মালেক জানান, ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধরলা বিওপির কমান্ডার আব্দুল মাজেদ ও ধবলগুড়ি বিওপি কমান্ডার আমিনুর রহমান। বর্তমানে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের অতিরিক্ত টহল দল রয়েছে।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ভারতীয় কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা থানার সাতগ্রাম ললঙ্গীবাড়ী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক আলী হোসেন নিহত হন। এ সময় অপর ১৩ বাংলাদেশী রাখাল ১১টি গরু নিয়ে পালিয়ে আসে। ভারতীয় গরু পাচারকারীরাও পালাতে সক্ষম হন। বিএসএফ ২টি গরু ও নিহত আলী হোসেনের লাশ নিয়ে গেছে। ওই সীমান্ত থেকে ১টি গরু উদ্ধার করেছে ধবলগুড়ি বিজিবির টহলদল।
লালমনিরহাট তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলগুড়ি ও ধরলা বিওপি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মেইন পিলার ৮৭৪ এর ২ নম্বর সাব পিলার এলাকায় ভারতীয় কোচবিহার-১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশী গরুর রাখাল আলী হোসেন নিহত হন। বর্তমানে মরদেহটি কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
লালমনিরহাট তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক সৈয়দ ফজলে মুনীম দাবি করেন, পতাকা বৈঠকের আহ্বানসহ বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ-কে কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভোররাত থেকে আমরা ধবলগুড়িতে অবস্থান করছি। আজ বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হবে। এর পর বিস্তারিত জানানো যাবে।’
এর আগে গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসূতী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সাদাত হোসেন মিজান (২৩) নামে এক বাংলাদেশী যুবক গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
