মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার আত্মা দেহ থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এক রহস্যময় জগতে প্রবেশ করে। সেখানেই মানুষ স্বপ্নের মাধ্যমে অনেক কিছু দেখে, অনুভব করে, আবার ভুলেও যায়। কিন্তু একজন মুমিন সবসময় আকাঙ্ক্ষা করে সে যেন স্বপ্নযোগে প্রিয় নবীকে দেখতে পায়। কেননা নবীজি (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়।
আর যারা স্বপ্নে নবীজিকে দেখতে পান, তারাও হয়ে থাকেন বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তাইতো নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে স্বপ্নে আমাকে দেখল সে আমাকেই দেখল। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৯৯৪)
ইসলামের ইতিহাসে অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও বুজুর্গরা রাসুল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেছেন। তবে আমল ও সুন্নাহর তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা করা বা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার বিষয়টি ফতোয়া ও তাসাউউফ শাস্ত্রের কিতাবগুলোতে আদব পরিপন্থী কাজ এবং নবীজির সুন্নাহর অবমাননা হিসেবে বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এ বিষয়ে পরিষ্কার আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সুন্নাহর অনুসরণ ও আনুগত্য ছাড়া শুধুমাত্র দিদারের আকাঙ্ক্ষা করা এক ধরনের বেয়াদবি।’ তিনি বুঝিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সারা বছর নবীজির সুন্নাহ মানে না, তার জন্য নবীজির দিদার চাওয়ার আগে নিজের আমলের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।
এটি মূলত একটি আধ্যাত্মিক সতর্কবাণী। (আদাবুল মুআশারাত ও খুতুবাতে হাকিমুল উম্মত)
তবে এক্ষেত্রে কোরআন ও হাদিসের কোথাও কোনো বিশেষ আমলের কথা বলা হয়নি। তারপরও বুজুর্গ উলামায়ে কেরামগণ নবী প্রেমিকদের জন্য রাসুল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার বিশেষ কিছু আমলের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো-
১. আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ সমূহ মেনে চলা
২. রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ মোতাবেক জীবন যাপন করা
৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
৪. অজুসহ রাতে ঘুমানো (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ২/২৩৪)
