বিশ্ব সংবাদ

‘দুর্নীতি করো, মুখ্যমন্ত্রী হও’, পূর্ব ভারতে বিজেপির নতুন নীতি?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক সময় বলেছিলেন—‘না খায়েঙ্গে, না খানে দেঙ্গে’। যার অর্থ, দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না। কিন্তু ভারতের সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে একের পর এক ‘দুর্নীতিবাজদের’ মুখ্যমন্ত্রীত্ব দিচ্ছে মোদির বিজেপি।

ভারতীয় সংবাদমাধদম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোদি জমানায় যেকোনও প্রভাবশালী বিরোধী নেতাকে নিজেদের দলে ভেড়াতে এবং শীর্ষ পদে বসাতে বিজেপি সুনির্দিষ্ট একটি ফর্মুলা বা ‘ফোর আই’ (4 I) প্যাটার্ন অনুসরণ করে থাকে।

এর মধ্যে প্রথমেই আছে আইডেনটিফাই/Identify বা শনাক্তকরণ)। কোনো বিরোধী হেভিওয়েট নেতাকে কোটি রুপির দুর্নীতির মামলায় চিহ্নিত করা এবং তা জনসমক্ষে প্রচার করা।

এরপরই শুরু হয় ইনভেস্টিগেশন/Investigation বা তদন্ত। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা—যেমন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বা সিবিআই (সিবিআই) ব্যবহার করে ওই নেতার ওপর আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

পরবর্তীতে করা হয় ইন্ডাক্ট/Induct বা অন্তর্ভুক্তি। আইনি চাপের মুখে থাকা সেই নেতাকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে বিজেপিতে স্বাগত জানানো হয়।

সবশেষে Inaugurate বা অভিষেক। দলবদলের পুরস্কার হিসেবে তাদের বসানো হয় কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদে।

উদাহরণস্বরূপ শুরুতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অতীতের দিকে তাকানো যেতে পারে। বিজেপিতে যোগ দেয়ার আগে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দেয়ার আগে বহুজাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘লুই বার্জার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে’ হিমন্তের জড়িত থাকার অভিযোগ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছিল মোদি সরকার।

পরবর্তীতে সেই অভিযোগের তোয়াক্কা না করে তাকে দলে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি কেবল আসামের মুখ্যমন্ত্রীই নন, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক বা আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গল্পও একই ধরনের। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান এই সংগঠককে ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত ‘নারদ স্টিং অপারেশন’ বা নারদ-কাণ্ডে ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া সারদা কেলেঙ্কারির মতো বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে এনেছিল বিজেপি।

তবে দলবদল করার পর সেই পুরোনো দুর্নীতির অভিযোগগুলো থেকে তিনি মুক্তি পান এবং অভিযোগগুলো এক সময়ে এসে নাই হয়ে যায়। আজ সেই শুভেন্দু অধিকারীই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপি থেকে বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। অতীতে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও জনতা দলের (জেডিইউ) হয়ে রাজনীতি করেছিলেন সম্রাট চৌধুরী। তার অতীতও একাধিক বিতর্কে ঘেরা।

১৯৯৫ সালের একটি খুনের মামলায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি বয়স জালিয়াতি করে নিজেকে নাবালক দাবি করা থেকে ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহার করার বিতর্কও তার নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এই সমস্ত বিতর্ক ও অভিযোগ অনায়াসেই আড়ালে চলে গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button