সুন্দরবনে বাঘের হামলায় মৌয়াল জখম

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে বাবলু গাজী (৪৮) নামে এক মৌয়াল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে নীলডুমুর ঘাটে নিয়ে আসেন তার পিতাসহ অন্য মৌয়ালরা।
এর আগে রোববার (১০ মে) সকাল ৮টার দিকে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে বাঘের আক্রমণের শিকার হন মৌয়াল বাবলু গাজী।
বাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত বাবলু গাজী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মো. আব্দুল মালেক গাজীর ছেলে।
ভারতের সাথে ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে ইউসুফ গাজীর নেতৃত্বে একদল মৌয়াল সুন্দরবনের পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধু ভাঙছিলেন। হঠাৎ একটি বাঘ ঝোপের আড়াল থেকে লাফিয়ে এসে বাবলু গাজীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় তার সঙ্গে থাকা অন্য মৌয়ালরা চিৎকার ও লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এলে বাঘটি বাবলু গাজীকে ফেলে রেখে বনের মধ্যে চলে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু গাজীকে উদ্ধার করে একটি নৌকায় করে লোকালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে তারা শ্যামনগর উপজেলা নীলডুমুর ঘাটে পৌঁছায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত বাবলু গাজীর পিতা মালেক গাজী জানান, ছেলেসহ আমরা একসাথে মধু ভাঙছিলাম। এ সময় বনের মধ্যে থেকে হঠাৎ একটি বাঘ এসে আমার ছেলের উপর আক্রমণ করে। ঘটনার সাথে সাথে অন্য মৌয়ালরা লাঠি সোটা নিয়ে এগিয়ে এলে এবং আমাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে বাঘ বাবলুকে ফেলে রেখে বনের ভিতর চলে যায়। বাঘের আক্রমণে আহত হলেও আমার ছেলে এখনো প্রাণে বেঁচে আছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. শাকির হোসেন জানান, বাঘের কামড়ে বাবলু গাজীর ঘাড়ের নিচ থেকে পিঠ ও কোমর পর্যন্ত গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আহত মৌয়ালকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।







