
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভেঙে ফেলার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। এসময় তারা জেলা প্রশাসকের গাড়ি থামিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সদস্যসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
জেলা প্রেসক্লাব সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে শরীয়তপুর পৌরসভার আমিনবাগ এলাকার তুলাসার মৌজায় প্রেসক্লাবের জন্য ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র রায়। সেই জায়গাটি ডোবা থাকায় তখনকার কর্মরত সাংবাদিকরা জায়গাটি নিজস্ব অর্থায়নে মাটি ভরাট করে পরবর্তীতে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। পাশাপাশি ২০২৩ সালে প্রেসক্লাবের জন্য একতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করেন। গতকাল শনিবার রাতে কোনোপ্রকার নোটিশ ছাড়াই প্রেসক্লাবের নির্ধারিত জায়গার তিনটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে জেলা প্রশাসন। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসকের দাবি প্রেসক্লাবের জায়গাটিতে শিশু পার্ক থাকায় প্রেসক্লাবটিকে স্থানান্তর করতে অন্যত্র একটি জমি বরাদ্দের কাজ চলমান রয়েছে, তাই শিশুপার্কের সুবিধার্থে প্রেসক্লাবের সভাপতির মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়া হয়।
এদিকে প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার দিনগত রাতে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের সম্পৃক্ততার অভিযোগে এনে তাদের ছবি দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল বেপারী। পরে রোববার সকালে জেলা শিল্পকলা সংলগ্ন প্রেসক্লাব পরিদর্শনে গেলে তার উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ইট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের সাংবাদিক নুরুল আমিন রবিন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরিফুল আলম ইমন ও সদস্য ইসহাক মাদবর। পরে আহত ইশ্রাফিল ও তাঁর সহকর্মীদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। আর দুই সাংবাদিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হামলায় ইশ্রাফিলের ডানহাত ভেঙে গেছে বলে জানান চিকিৎসক।
আহত কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরিফুল আলম ইমন বলেন, আমরা সকালে প্রেসক্লাবে জায়গাটিতে পরিদর্শনে গেলে আট থেকে দশজন লোক হঠাৎ করে সময় টিভির সাংবাদিক ইস্রাফিল ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। আমরা তাকে বাঁচাতে গেলে আমরাও আহত হই। আমার হাতের একটি আঙুল ভেঙে গিয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার বিচার চাই।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জেলা প্রশাসকের পদত্যাগের দাবি জানান। অবরোধের একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে এসে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ভিপি সম্পত্তিতে স্থাপনা তৈরি করা যায় না। সেজন্য প্রেসক্লাবের জায়গার বিষয়ে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যার কাজ ইতোমধ্যে অর্ধেকটা সমাপ্ত হয়েছে যা আমরা দুই একদিনের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রেরণ করবো। অকৃষি জমি আমরা বন্দোবস্ত দিচ্ছি। আর দেয়াল ভাঙার বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি। নির্বাচিত সভাপতি মৌখিক কথার ভিত্তিতে প্রাচীরটি অপসারণ করেছি। তবে ভবন কিন্তু অপসারণ করিনি। শুধুমাত্র পার্কটির শিশুরা যাতে উন্মুক্তভাবে ঘুরতে পারে সেজন্য পেছনের দেয়াল ভেঙেছি। এখন চাইলে আপনার ওই জায়গা ব্যবহার করতে পারেন। অপসারণের জন্য লিখিত নোটিশ ছাড়া আপনি এটা ভাঙতে পারেন কি-না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মৌখিকভাবে আমি এটা করতে পারিনা। আপনারা যদি সেখানে স্থাপনা তৈরি করে থাকেন তাহলে সেই কাগজপত্র নিয়ে আসেন, আমি দেখে প্রয়োজনে সেই স্থাপনা পুনরায় তৈরি করে দিবো।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল আমিন রবিন বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ফেলার দেওয়াল পুনরায় ঠিক করে দিবেন। তিনি যদি তা না করেন তাহলে আমরা প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। পাশাপাশি সভাপতি প্রেসক্লাবকে অবগত না করে কীভাবে মৌখিকভাবে সীমানা প্রাচীর অপসারণ ও সিদ্ধান্ত দিলো সেই বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হবে। তিনি যদি সঠিকভাবে কারণ দর্শাতে না পারেন তাহলে কার্যকরী পরিষদ তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবে। পাশাপাশি আমাদের সহকর্মী ইস্রাফিল বেপারীর উপর হামলার ঘটনায় তার পরিবার থানায় অভিযোগ করবে। আমরা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। যারা একাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) তানভীর হোসেন বলেন, প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। কিন্তু কোন সাংবাদিকের উপরে হামলা বা আক্রমণের ঘটনাটি আমি জানিনা। এ বিষয়ে কেউ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগও করেনি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কেউ আইনি সহায়তা চাইলে আমরা পাশে থাকবো।







