ঘিওর খাদ্যগুদামে চাল-গমের ১২০ টন ঘাটতি: ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত, সিলগালা

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৪১ টন ধান বেশি এবং ৬ হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের ৪৯০ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে গঠিত কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে খাদ্যশস্যের মজুত যাচাই করে। এ সময় হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুতের গরমিল ধরা পড়ে। গুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি এবং ৬ হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া যায়।
মজুত যাচাইয়ের পর কমিটি বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন), প্রশাসন বিভাগকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করে। পরে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী ফারহানা আক্তার ও শ্রী বিপুল কুমারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামের পরিদর্শক (অফিসার ইনচার্জ) শ্রী বিপুল কুমারের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট আমার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।”







