বিশ্ব সংবাদ

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ: সরকারি কর্মকর্তার মুখে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট গুঁজে দিল জনতা!

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এক সরকারি কর্মকর্তার মুখে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট গুঁজে দিয়েছেন-এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, একটি দোকানদারকে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করার বিনিময়ে ওই কর্মকর্তা ঘুষ নিয়েছেন। এ অভিযোগের জেরেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ঢের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রজুড়ে রেস্তোরাঁ, ওষুধের দোকান ও বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অভিযান চলছে। এর মধ্যেই ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা একজন এফডিএ কর্মকর্তাকে ঘিরে রেখেছেন। তাঁরা ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে কথা বলছেন। এ সময় মারাঠি ভাষায় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো আপনি নিজেই খান।’

এরপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজনকে ওই কর্মকর্তার মুখে বিস্কুট গুঁজে দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে যে বিস্কুটগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা বিস্কুটগুলো সত্যিই মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি দোকানদারকে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করার বিনিময়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সূত্রপাত একটি শিশুকে ঘিরে।জানা যায়, স্থানীয় একটি পানের দোকান থেকে কেনা মুখরোচক খাবার খাওয়ার পর দুই বছরের একটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এই ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের এফডিএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর এফডিএর এক কর্মকর্তা ওই দোকান পরিদর্শনে যান। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিদর্শন শুরু হওয়ার আগেই শিশুটির অসুস্থতার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা মুখরোচক খাবারগুলো দোকান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, দোকানদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিনিময়ে ওই কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা ওই কর্মকর্তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তাঁর মুখে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট গুঁজে দেওয়া হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‘উজ্জ্বল ডোভাল’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। ভিডিওটি নিয়ে লাইক ও মন্তব্যও পড়েছে ব্যাপকভাবে।

ভিডিওটি দেখে অনেক নেটাগরিক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন অনেকে।

তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতাও এখনো নিশ্চিত নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button