স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত: দুর্নীতি নির্মূল করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেব

সাইফুল ইসলাম : সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সবাই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের রায় পেয়েছি। কাজেই আমাদেরও অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’
অতীতের নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগের আমলে নির্বাচনের সময় ডিসি, ইউএনও ও ওসিদের বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো। ইউএনওকে ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা, থানার পরিধি অনুযায়ী ওসিকে এবং ডিসিকেও বিপুল অর্থ দেওয়া হতো। সব মিলিয়ে তখন ঘুষ ও দুর্নীতির মহারণ্য তৈরি হয়েছিল। এবার একটি নির্বাচন হয়েছে, কেউ কি ১০ টাকা পেয়েছেন? আমি কাউকে ১০ টাকা দিইনি, কেউ চায়ওনি।’
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কোনো ধরনের আর্থিক বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যাবে না। অতীতে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কিংবা বিভিন্নভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই দিন শেষ হয়েছে। সবাইকে ঈমান, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের সুন্দর ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগে ঠিকাদারদের মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালক পর্যায়েও কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা।







