বিশ্ব সংবাদ

আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ: তালেবান বলছে ‘ইসলামে অনুমতি নেই

আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সদ্য অনুমোদিত একটি পুলিশি আইনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। গতকাল বুধবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনও স্থান নেই।

সদ্য অনুমোদিত ‘শুরতা’ আইনের অধীনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুজাহিদ বলেন, গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিক্ষোভের সুযোগ থাকলেও ইসলামি ব্যবস্থায় এর কোনও স্থান নেই। তার যুক্তি, ইসলামি শরিয়াহ ও আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানে অনুমোদিত পুলিশ আইনটি মূলত এদেশের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। আমরা আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থার কথা বলছি এবং এ বিষয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরাধ দমনে যা যা প্রয়োজন, তার সবই এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনো অস্তিত্ব নেই। কারণ, বিক্ষোভ কেবল সেই সমাজেই খাটে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন আইন প্রচলিত রয়েছে অথবা যেখানে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র কায়েম আছে।’

তালেবানের মুখপাত্র যোগ করেন, বিক্ষোভকে যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবেও ধরে নেয়া হয়, তবুও জনগণের উচিত তাদের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানানো। কর্তৃপক্ষের উচিত যেকোনও ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং তার ভাষায় তথাকথিত ‘বিশৃঙ্খলা’ রোধ করা।

সম্প্রতি বাদাখশান ও হেরাত প্রদেশে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরই মূলত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। উভয় প্রদেশেই তালেবান বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানায়, গত জুনে হেরাতে বিক্ষোভ চলাকালীন নারীসহ কয়েক ডজন মানুষকে আটক করে তালেবান বাহিনী। ওই বিক্ষোভ চলাকালে তালেবানের গুলিতে অন্তত একজনের প্রাণহানি ঘটে।

সূত্র: আমু টিভি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button