বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনসিপির তিনজনকে মন্ত্রী করার নিশ্চয়তা !
বিএনপির কাছে ২০ আসন চায় এনসিপি , জামায়াত বিএনপির চেয়েও বেশি ছাড় দিতে চায়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করা হলেও, আসন বণ্টনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দেশের একটি গণমাধ্যম।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুই দলের মধ্যে কয়েকটি সূত্রের মাধ্যমে বলা হয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির জন্য বিএনপির সাথে এনসিপির অমূলক আলোচনা চলছে। এনসিপি মোট ২০ টি আসনে সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ঢাকায় চারটি আসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদি উভয় দলের মধ্যে বোঝাপড়া হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ওয়ার্ডগুলিতে বিএনপি প্রয়োজনে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে।
এ ছাড়াও, ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের দাবিও জানিয়ে রেখেছে দলটি। বিএনপির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে শুধু আসন বণ্টনের বিষয় নয়, বরং এনসিপির নেতারা তাদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করারও নিশ্চয়তা চান এবং ক্ষমতার সময় তিনজনকে মন্ত্রী করার ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় উল্লেখ করেছেন। তবে BNP এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং তারা এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু ঘোষণা করতে আগ্রহী নন; পাশাপাশি তাঁরা চান না যে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে কোনোরকম নির্বাচনী জোটে বা সমঝোতায় প্রবেশ করুক।
এনসিপি সংক্রান্ত কিছু সূত্র জানাচ্ছে, জামায়াত এই দলটির প্রতি আগ্রহী হয়েছে এবং বিএনপির তুলনায় বেশি ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। তবে এনসিপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, নতুন এই রাজনৈতিক দলটি ‘ডানপন্থী’ আখ্যা নিতে চায় না। তারা নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, “বর্তমানে এনসিপি নির্বাচনী জোট বিষয়ক পরিকল্পনা করছে না। আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
নির্বাচনের আবহকে সংগঠনগত কার্যকলাপ বাড়ানোর জন্য কাজে লাগাতে চাই। ” তিনি আরও বলেন, “আমরা আপাতত এককভাবেই নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। কোনো সমঝোতা কিংবা জোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিনা তা আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণার পর দেখা যাবে। ”
অন্যদিকে ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “যাদের আমাদের মৌলিক দাবিগুলোর সঙ্গে সাদৃশ রয়েছে এমন দলগুলোর সঙ্গে যদি ঐক্যবদ্ধ হতে কিংবা কোন ধরনের সমঝোতায় যেতে হয় তবে আমরা সেটাকে গণ্য করবো। ”
বুধবার নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারে সাক্ষাৎ করার পর নাহিদ ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে তার দল ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুত এবং তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তৈরি আছে। যদিও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যেসব আসন থেকে নির্বাচন করবেন, তাদের সেই সব আসনে প্রার্থী দেয়াও হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি জানান যে, তাদের সংস্কার ও জুলাই সনদের দাবি নিয়ে কোনও দল ঐক্যমত্য পোষণের ক্ষেত্রে তখনই জোটের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।





