যশোরে যৌথবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র ও মদসহ চারজন গ্রেপ্তার

মোঃ জুম্মান হোসেন
যশোর শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নামধারী আলোচিত ক্যাডার আরিফের বাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগজিন, ধারালো অস্ত্র ও মদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের আগেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় মূল অভিযুক্ত আরিফ।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর যশোর শহরের ঢাকারোড বিসিএমসি সংলগ্ন আরিফের বাড়িতে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, একটি গুলি, দুটি চাপাতি, দুটি চাকু, একটি টেলিস্কোপ, এক বক্স এয়ারগানের গুলি, দুটি মেটাল স্ট্রিক, পাঁচ বোতল মদ ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে আরিফ পালিয়ে গেলেও আটক করা হয় তার দুই ভাই—জোয়েব হাসান সাকি ও জাকির হোসেন সাগর। এছাড়া আরিফের স্ত্রী লোপা খাতুন এবং সাগরের স্ত্রী তাহেরা আক্তার তানিয়াকেও আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে চারটার দিকে আটক চারজনকে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আরিফ, সাকি ও সাগর ছিলেন প্রভাবশালী ও দাপুটে ক্যাডার। বিশেষ করে আরিফ ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের একটি অংশের বাহিনী প্রধান। একই সঙ্গে তিনি শাহীন চাকলাদারের ভাই ফন্টু চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
গোয়েন্দা তথ্যমতে, যুবলীগের নাম ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর আগেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন।
বিশেষ বাহিনীর নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই মধ্যরাতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় আলোচিত সন্ত্রাসী আরিফ।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।





