জাতীয়

সিরাজগঞ্জে জব্দ হওয়া পেট্রোলের ‘হিসাব মিলছে না’

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ হওয়া পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে খোদ জব্দকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিনসাড়া বাজারে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। পরে সেগুলো বিক্রির জন্য খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়।

মূলত সেদিন জব্দ হওয়া দুই ড্রাম তেল থেকে এক ড্রাম বিক্রির পর আরেকটি ড্রামে থাকা পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে ইউএনও নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে।

খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন বলেন, দুই ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান। জনপ্রতি এক লিটার করে এক ড্রাম বিক্রি করেন। আরেক ড্রাম মান্নাননগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে বিক্রির কথা বলে নিয়ে যান।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ও বলতে একজনকে শোনা যায়, ‘বিনসাড়া বাজারে জব্দকৃত এক ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়েছে। আরেক ড্রাম ইউএনও স্যার নিয়ে যাচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিনসাড়া বাজারের মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন ইউএনও। অথচ, শুধু জরিমানা আদায়ের রশিদ দেওয়া হয়েছে। জব্দ হওয়া পেট্রোলের কোনো কাগজ দেওয়া হয়নি। রাত ১১ দিকে তেলের খালি ড্রাম ফেরত দিয়ে গেছেন।

তবে পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জব্দ হওয়া দুই ড্রাম তেল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে এক লিটার করে জনপ্রতি বিক্রি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button