অর্থ ও বাণিজ্য

মহেশ ভাটের এক লাইনে গ্যাংস্টার হয়ে উঠল কাল্ট ক্লাসিক

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম কাল্ট ক্লাসিক ‘গ্যাংস্টার’ মুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই বিশেষ মাইলফলককে সামনে রেখে পরিচালক অনুরাগ বসু শেয়ার করলেন সিনেমাটি নির্মাণের পেছনের কিছু অজানা ও মজার গল্প। অনুরাগ বসু জানান, এই সিনেমার মূল আইডিয়াটি এসেছিল মহেশ ভাটের কাছ থেকে। ভাট সাহেব শুধু একটি লাইন বলেছিলেন— ‘একজন গ্যাংস্টারকে তার প্রেমিকা ধোঁকা দিচ্ছে।’

এই ভাবনাটি অনুরাগের মাথায় গেঁথে যায়। তখন তিনি ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই কাজ থেকে বিরতি নিতেই মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে লিখে ফেলেন গ্যাংস্টার-এর পুরো স্ক্রিপ্ট।
সিমরান চরিত্রের জন্য অনুরাগ একজন পাহাড়ি মেয়ে খুঁজছিলেন।

অনেক অডিশন নেওয়ার পর কঙ্গনা রানাওয়াতকে দেখা মাত্রই তার মনে হয়েছিল— একেই খুঁজছিলেন তিনি। তবে কঙ্গনাকে নেওয়ার আগে আরো ৫-৬ দিন অপেক্ষা করেছিলেন অনুরাগ, যদি আরো ভালো কাউকে পাওয়া যায়! শেষ পর্যন্ত কঙ্গনাই হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন সেনসেশন। সিনেমাটির শুটিং যখন শুরু হয়, অনুরাগ বসু তখন ক্যান্সারের চিকিৎসার (কেমোথেরাপি) মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সবাই তাকে বিশ্রাম নিতে বললেও তিনি জেদ ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুটিং করতে যান।

বাজেট ছিল মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকা। খরচ বাঁচাতে সেখানে এক ছোট ইউনিট নিয়ে কাজ করেছিলেন তারা। অনুরাগ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাদের বাজেট কম ছিল, তাই আমরা নিজেরাই রান্না করতাম। আমি ডাল রাঁধতাম আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটত। খেয়েই আমরা শুটিংয়ে বেরিয়ে পড়তাম।’

সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের সঙ্গে অনুরাগের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। গ্যাংস্টার-এর গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। অবাক করা বিষয় হলো, জনপ্রিয় গান ‘ইয়া আলি’ প্রথমে সিনেমার অংশই ছিল না। একেবারে শেষ মুহূর্তে জুবিন গার্গ মুম্বাই এলে গানটি রেকর্ড করা হয় এবং সিনেমাতে যোগ করা হয়। পরিচালকের ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘ভিগি ভিগি’ গানটি।

অল্প বাজেট, শারীরিক অসুস্থতা ও একঝাঁক নতুন প্রতিভা নিয়ে শুরু হওয়া এই সিনেমাটি আজ বলিউডের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। অনুরাগ বসুর সাহসী পরিচালনা আর কঙ্গনা-ইমরান হাশমিদের দুর্দান্ত অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button