মেসেজে ‘কবুল’ বললে কি বিয়ে সম্পন্ন হয়?

ডিজিটাল যুগে বদলেছে ভালোবাসার ভাষা। অনেকে আবেগের বশে প্রিয় মানুষকে বিয়েটাও করে নিচ্ছে ইনবক্সেই। হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার বা এসএমএসেই অনেকে কবুল বলে একে অপরকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা গুরুতর, এই ‘কবুল’ কি সত্যিই একটি বৈধ বিয়ের সমান? ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্র কী বলে?
বিয়ে শুধু আবেগ নয়, শরিয়তের চুক্তি
ইসলামে বিয়ে (নিকাহ) কেবল সম্পর্কের ঘোষণা নয়, এটি একটি বৈধ চুক্তি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।” (সূরা আন-নিসা: ৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণসহ একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আসে, “তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও…” (সূরা আন-নূর: ৩২)
এখানে সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
হাদিসে বিয়ের শর্ত
রসূল (সঃ) বলেছেন, “অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, “দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।” (বায়হাকি)
অর্থাৎ, বিয়ের জন্য শুধু ছেলে-মেয়ের সম্মতি যথেষ্ট নয়, সাক্ষী ও অভিভাবকের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে মেসেজে ‘কবুল’ কেন যথেষ্ট নয়
মেসেজে ‘কবুল’ বলার ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব শর্ত অপূর্ণ থাকে, একই বৈঠকে (মজলিসে) ইজাব-কবুল হয় না। সাক্ষীদের উপস্থিতি থাকে না। ওয়ালি বা অভিভাবকের অনুমতি থাকে না। দেনমোহর নির্ধারণ স্পষ্টভাবে হয় না।
তাই ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) একই সময় ও একই পরিবেশে হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চ্যাটে এই কাঠামো পূরণ হয় না।
প্রযুক্তির বিয়েতে কী বলে আলেমরা
সমসাময়িক অনেক আলেম বলেন ভিডিও কল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যদি ইজাব-কবুল একই সময়ে হয়, সাক্ষীরা সরাসরি উপস্থিত থাকেন, সব শর্ত পূরণ হয় তাহলে তা শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে। কিন্তু সাধারণ টেক্সট মেসেজে এই শর্তগুলো নিশ্চিত করা যায় না, তাই সেটিকে বৈধ নিকাহ ধরা হয় না।
বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা
বাংলাদেশে মুসলিম বিয়ের জন্য কাজীর মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো, নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার ধাপগুলো অপরিহার্য। শুধুমাত্র মেসেজে ‘কবুল’ বললে আইনের চোখে কোনো বিয়ে সম্পন্ন হয় না।
ভুল ধারণার ফাঁদ
অনেক তরুণ-তরুণী আবেগের বশে মনে করেন, ‘আমরা তো কবুল বলেছি, আমরা স্বামী-স্ত্রী।’ এই ধারণা শুধু ভুলই নয়, ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি দিক থেকেও।
কী করবেন
বিয়ের সিদ্ধান্তে শরিয়তের নিয়ম মেনে পরিবারের সম্মতি নিন।অভিজ্ঞ আলেম বা কাজীর পরামর্শ নিন। সবকিছু লিখিত ও নিবন্ধিত করুন।
তাই আবেগে ইনবক্স নয়, শরিয়তের সঠিক পথের নিকাহই হতে পারে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বৈধ দাম্পত্য জীবনের শুরু।





