ত্রাণবাহী জাহাজে সাংবাদিক অপহরণে ইসরায়েল নিন্দার মুখে

গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী নৌবহর (ফ্লোটিলা) থেকে তিনজন সাংবাদিককে আটক করার ঘটনায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ)। সংস্থাটি একে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে গ্রিসের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গাজাগামী ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ২২টি আটক করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই বহরটি ফিলিস্তিন উপকূল থেকে কয়েক শ মাইল দূরে থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল সেখানে অভিযান চালায়।
এই অভিযানে আলজাজিরার দুইজন সংবাদকর্মী ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম জেটিওর একজন সাংবাদিকসহ মোট ২১১ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আলজাজিরার ফরাসি সংবাদদাতা হাফেদ মরিবাহ ও তুর্কি ক্যামেরাম্যান মাহমুদ ইয়াভুজ এবং জেটিওর মার্কিন সাংবাদিক অ্যালেক্স কোলস্টন।
আলজাজিরা তাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থগিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আটক সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এর আগেও ত্রাণবাহী নৌবহর থেকে আটক হওয়া কর্মীরা মারধর, চোখ বেঁধে রাখা এবং চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ করেছিলেন। যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।





