মুন্সিগঞ্জ

১৮ বছরে ৫০ বার রক্তদান: মুন্সীগঞ্জের প্রথম ব্যক্তি মাহাবুব রনি

মানুষের উপকার করলে সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায়। আমার দ্বারা যদি কেউ কোনো উপকার পেয়ে থাকে, আমি তাতেই খুশি এভাবেই নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানালেন মুন্সীগঞ্জের মাহাবুব রনি (৩৬)।

২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল এই দীর্ঘ ১৮ বছরে এমন কোনো বছর নেই, যেদিন তিনি রক্তদান থেকে বিরত থেকেছেন। ধারাবাহিক এই মানবসেবার মধ্য দিয়ে তিনি সম্পন্ন করেছেন তার ৫০তম রক্তদান। এর মাধ্যমে তিনি মুন্সীগঞ্জের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০ বার রক্তদানের অনন্য অর্জন গড়েছেন।

মাহাবুব রনির রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ (A+)। নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সমাজসেবামূলক কাজে তার আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের।

তার রক্তদানের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে আয়োজিত একটি ব্লাড ক্যাম্পের মাধ্যমে। প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কাজকে জীবনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।

মাহাবুব রনি বলেন, “প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর থেকেই বুঝতে পারি, আমার এই ছোট্ট উদ্যোগ কারো জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।সেই অনুভূতি থেকেই নিয়মিত রক্ত দিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবো, ততদিন এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন “মুন্সীগঞ্জ যুব রক্তদান সংস্থা” এর সভাপতি রায়হান রাব্বির সহযোগিতা ও উৎসাহ তার এই পথচলাকে আরও সহজ করেছেন। তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সময় রক্তদানের জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন। গতকাল (১৭ এপ্রিল) শুক্রবার শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ৫০তম রক্তদান সম্পন্ন করেছি।

স্মরণীয় কোনো ঘটনার কথা জানতে চাইলে মাহাবুব রনি বলেন, তার কাছে প্রতিটি রক্তদানই বিশেষ ও স্মরণীয়। তবে কিছু ঘটনা আছে, যা সবসময় মনে গেঁথে থাকবে।

তিনি জানান, একবার একজন ব্যক্তির বাবার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। সে সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং একটি জীবন তার ওপর নির্ভর করছে উপলব্ধি করে সব ব্যস্ততা উপেক্ষা করে দ্রুত রক্ত দিতে ছুটে যান। এমন অসংখ্য ঘটনা আছে, যা আমাকে সবসময় মানবতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে জানান মাহাবুব রনি।

স্থানীয়দের মতে, মাহাবুব রনির এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো জেলার জন্য গর্বের। তার এই মানবিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবে বলেও মনে করছেন তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button