আইন-আদালত

আত্মগোপনে থাকা ঢাকার শ্রমিক লীগ নেতা জর্দা শামীম রংপুরে গ্রেপ্তার

রংপুরে বিদেশি মদসহ শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আলোচিত জর্দা শামীমসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সদরের ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ বোতল বিদেশি মদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহমেদ (৫৫) ও আরিফ হোসেন (৪৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্বকাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার সদর কোতোয়ালি থানায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা ও রামপুরা থানায় একাধিক অভিযোগ মামলা রয়েছে।

তিনি একজন এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। অভিযুক্ত অপর আসামি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা রয়েছে।

এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জর্দা শামীম উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি।

২০২৩ সালে তিনি ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হয়েছিলেন। ঝালকাঠির শামীম আহমেদ এলাকায় ‘জর্দা শামীম’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও তার কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাপন নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার ইন্ধন ছিল। বিশেষ করে ঝালকাঠির প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যকে পুঁজি করে তিনি নানা কাজ হাসিল করতেন বলে অভিযোগ আছে।

এলাকায় জমি দখল, টর্চার সেলে নারী-পুরুষদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জর্দা শামীম আহমেদ সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ রয়েছে।

শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক অসহায় কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। সেই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর মতো ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন শামীম আহমেদ। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button