থাইল্যান্ডে থাকসিন যুগের অবসানের সম্ভাবনা

দীর্ঘ ২০ বছরের নির্বাসন আর আট মাসের কারাভোগের পর অবশেষে মুক্ত থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ৭৬ বছর বয়সে কারাগার থেকে যখন তিনি বের হলেন, তখন তার পায়ে ছিল ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল ব্রেসলেট। তবে এই মুক্তি কি তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন শুরু, নাকি এক দীর্ঘ অধ্যায়ের করুণ সমাপ্তি—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

২০০১ সালে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসে থাইল্যান্ডের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন থাকসিন। এরপর থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন দেশটির সাধারণ মানুষের নয়নমণি, আবার রক্ষণশীলদের প্রধান শত্রু। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলেও নেপথ্যে থেকে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি।তার সমর্থিত দলগুলো বারবার নির্বাচনে জিতেছে, কিন্তু আদালতের রায় আর সামরিক হস্তক্ষেপে বারবার ক্ষমতা হারিয়েছে।

২০২৩ সালে একটি গোপন সমঝোতার মাধ্যমে থাকসিন দেশে ফেরেন। আশা ছিল, তার দল ‘ফেউ থাই’ আবারও দাপটের সাথে দেশ চালাবে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে থাকসিনের দল ফেউ থাই ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। তারা এখন তৃতীয় শক্তির দল হিসেবে একটি কনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে সরকারে আছে। থাকসিনের মেয়ে পেতোংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আদালত।

এমনকি থাকসিনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে আইনি চাপ তৈরি করা হয়েছে। সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’ ও জাতীয়তাবাদী ‘ভুমজাইথাই পার্টি’র উত্থানে থাকসিনের দলের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। অনেকেই ভেবেছিলেন রাজতন্ত্রপন্থী রক্ষণশীলদের সাথে থাকসিনের একটা বড় সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে ভিন্ন কথা।

থাকসিনের নেপথ্যে থাকার অনীহা ও নতুন ব্যবসায়িক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্ভবত রক্ষণশীলদের আবারও ক্ষুব্ধ করেছে। বিশ্লেষক কেন লোহাতেপানন্তের মতে, থাকসিন এখন এক কোণঠাসা পরিবেশে প্রবেশ করেছেন। দলটিকে এখন বেছে নিতে হবে—তারা কি থাকসিনের ছায়ায় থাকবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবে।

Exit mobile version