জোহানেসবার্গ থেকে আসা ফ্লাইটে আক্রান্ত যাত্রীর মৃত্যু; রোমের স্প্যালানজানি ইনস্টিটিউটকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখার নির্দেশ।
বিস্তারিত: করোনা মহামারীর রেশ কাটতে না কাটতেই ইতালির রাজধানী রোমসহ পুরো বিশ্বকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে ‘হান্টোভাইরাস’। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী একটি কেএলএম (KLM) ফ্লাইটে একজন নারী যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জানা গেছে, ফ্লাইটটি রোম হয়ে যাত্রা করেছিল এবং ওই নারী যাত্রী কিছু সময়ের জন্য রোম বিমানবন্দরেও অবস্থান করেছিলেন।
এই ঘটনার পর ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং রোমের বিখ্যাত ‘স্প্যালানজানি ইনস্টিটিউট’ (Spallanzani Institute) সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। যদিও ওই ফ্লাইটের অন্য চারজন যাত্রীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে, তবুও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হান্টোভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
এটি একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস যা মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় বন্য প্রাণীর মলমূত্র, লালা বা এদের কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। অনেক সময় আক্রান্ত প্রাণীর বর্জ্য মিশ্রিত ধুলোবালি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এটি সাধারণত সরাসরি এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায় না, তবে ভাইরাসের প্রকৃতিভেদে ঝুঁকি থেকে যায়।
লক্ষণসমূহ:
১. হঠাৎ তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা।
২. পেশিতে ব্যথা (বিশেষ করে পিঠ ও পায়ে)।
৩. শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসে পানি জমা।
৪. ঝিমুনি বা বমি বমি ভাব।
তদারকি ও বিতর্ক: ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করলেও বিমানবন্দরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২ মে থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্ত ওই নারী যাত্রী কীভাবে কোনো বাধা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারলেন, তা নিয়ে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, কোভিডের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও নজরদারিতে গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সতর্কবার্তা: রোমে বসবাসরত প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার ঢেকে রাখা এবং বাসাবাড়িতে ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধে সচেতন হতে বলা হয়েছে। যদি কারো শ্বাসকষ্টসহ তীব্র জ্বর দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
