সাত বছরেও আলোচনায় রিফাত হত্যা মামলা, কারাগারে মিন্নির নীরব জীবন

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাত বছর পূর্ণ হলো। ২০১৯ সালের এই দিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য হামলায় গুরুতর আহত হন রিফাত শরীফ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ভিডিওচিত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মামলায় তদন্ত শেষে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে আছেন।
কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ সময় তিনি একাকী থাকেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগী। কারাগারের নিয়ম মেনে চলেন এবং এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে এলে শুধু তখনই তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন।
মিন্নিকে প্রথমে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হলেও পরে বিচারিক কার্যক্রম এবং পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথমে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের দাবি ছিল, হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পরিবারের দাবি, তদন্তে প্রকৃত ঘটনার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি এবং তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এবং তদন্তে বিভিন্ন অসঙ্গতি ছিল।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার মেয়ে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিন্নিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার এই বহুল আলোচিত হত্যা মামলা এখনও জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। মামলার বিচারিক রায় ঘোষিত হলেও ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত ও অভিযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।





