শ্যামনগরে কৃষকের পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে ক্ষতি: অভিযোগ দায়ের

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট মঠের চকে এক কৃষকের চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত দুটি পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) পশ্চিম ধুমঘাট গ্রামের সন্তোষ কুমার মণ্ডলের ছেলে প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি একই এলাকার রবী মণ্ডলের ছেলে জগদীশ মণ্ডল, গৌরপদ মণ্ডলের ছেলে জয়দেব মণ্ডল, পতিরাম মণ্ডলের ছেলে প্রদীপ মণ্ডল, শিবপদ মণ্ডলের ছেলে মিলন মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করেন।
অভিযোগে প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, পূর্বে দায়ের হওয়া একটি মামলার জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতির হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি ও তার স্ত্রী দীপালি ধান চাষের কাজ করতে ধুমঘাট বিলে গেলে দেখতে পান কয়েকজন ব্যক্তি তাদের দুটি পাওয়ার ট্রিলারের যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে সেগুলো দুটি আলাদা পুকুরে ফেলে দেন। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় কাছে যেতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বুধবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে পাওয়ার ট্রিলার দুটি উদ্ধার করা হয়।
প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “আমি একজন দরিদ্র কৃষক। অনেক কষ্ট করে দুটি পাওয়ার ট্রিলার কিনেছি। এ ঘটনায় আমার প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুই দিন চাষাবাদ বন্ধ থাকায় অন্য কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জগদীশ মণ্ডল। তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। চলমান মামলার জেরে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





