র্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা চলবে: ইন্তেখাব | নতুন বাহিনী ও আইন

র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠন করা হলেও র্যাবের আওতাধীন সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম বন্ধ হবে না।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ বৃহস্পতিবার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, নতুন বাহিনী গঠনের জন্য প্রণয়নাধীন আইনে র্যাবের আওতায় থাকা বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আগের আইন অনুযায়ী চলমান রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে র্যাব বিলুপ্ত হলে বিচারাধীন মামলা আর চলবে না-এমনটি নয়।
উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নতুন বাহিনী কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কীভাবে এর কার্যক্রম চলবে, তা সরকার নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর জন্য একটি নতুন ও শুভ অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে তারা মনে করছেন।
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ ও বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তও হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যের সঙ্গে আছি, ন্যায়বিচারের পক্ষে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে হোক কিংবা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে হোক, যখন যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে সেগুলো পালন করার চেষ্টা করব।’
র্যাবের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অতীতের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। বাহিনী হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সে কাজ এরই মধ্যে করা হয়েছে।
নতুন আইনকে শুধু র্যাবের নাম পরিবর্তন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কাঠামোগত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোন বাহিনী কীভাবে কাজ করবে এবং কোন বাহিনীর অধীনে থাকবে, সেসব বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাহিনীর কোনো সদস্য অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও নতুন আইনে গুরুত্বের সঙ্গে রাখা হয়েছে। সদস্য যে পর্যায়েই থাকুক—সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য কোন কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই কমিটিতে কারা থাকবেন, সেসব বিষয়ও আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে-উল্লেখ করেন তিনি।





