জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের যে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থা ছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার নির্বাচনের পর থেকেই বলে আসছে তারা অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু মুখে এমন কথা বললেও তাদের প্রতিটি কার্যক্রমে পুরোনো ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায়ই বর্তমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জনগণের কাছে আরেকটি বার্তা দিচ্ছে এই সরকার মুখে জুলাই সনদ, গণভোট ও সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।
জাতীয় সংসদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এই নির্বাচনে সরকারি দল এবং বিরোধী দলীয় জোটের প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবনায় যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেই অনুযায়ী নির্বাচন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী নির্বাচন হয়নি না। ফলে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ধাক্কা খেয়েছে। তারপরও আমরা বিরোধী দলের জোট থেকে প্রার্থী দিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কারণ আমরা কোনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন চাইনি। সরকারি দল যেন এককভাবে তাদের দলীয় কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে না পারে, সেজন্যই আমরা প্রার্থী দিয়েছি। জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে এবং এতে অংশগ্রহণ করেছি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
