প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু মামলার তদন্তে অভিনেত্রী ডলি জহুরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তার মা নীলা চৌধুরী। তদন্তে প্রয়োজন হলে ডলি জহুরসহ কয়েকজনকে আসামি করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর দিনের ঘটনা সম্পর্কে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
ডলি জহুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেদিন সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে ডলি জহুর অনেক কিছু জানেন। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমেও তিনি ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। পাশাপাশি সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকের সঙ্গে ডলি জহুরের যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মনে করেন নীলা চৌধুরী।
ডলি জহুর ছাড়াও বাদল খন্দকারসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সালমান শাহর মা বলেন, তাদের কাছ থেকেও মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
প্রয়োজনে তাদের কাউকে আসামি করা হতে পারে কি না এমন প্রশ্নে নীলা চৌধুরী বলেন, তদন্তে প্রয়োজন মনে হলে তিনি সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে পারেন। তার দাবি, ডলি জহুর ও বাদল খন্দকারসহ কয়েকজন ব্যক্তি সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন এবং সত্য উদঘাটনে তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে সম্প্রতি গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নীলা চৌধুরী।
চলতি বছরের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ডন হকের ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নীলা চৌধুরী। এ ঘটনায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি শিবা শানুর দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে ভোট দিয়েছেন এবং তাকে কেউ সহায়তা করেছেন কি না সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ হবে।
