সাড়ে ৭ মাস ধরে নিখোঁজ মানিকগঞ্জের মা ও শিশু, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকার এক গৃহবধু ও তার শিশুকন্যা প্রায় সাড়ে সাত মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় গৃহবধুর স্বামী মো. মিন্টু মিয়া তিনজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন হরিরামপুর উপজেলার ইছাইল গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে মো. আল আমিন, তার মা আম্বিয়া বেগম এবং একই গ্রামের মো. নুর ইসলামের ছেলে তৌহিদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গৃহবধুর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকার সুযোগে আল আমিন ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় গত বছরের শেষ দিকে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে গৃহবধুকে ও তার মেয়েকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে গৃহবধুকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাদী।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর আল আমিনের মা আম্বিয়া বেগম সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলে মিন্টু মিয়া বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন দায়ের করেন।

মিন্টু মিয়া জানান, আদালতে মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শাহ আলম দীর্ঘদিনেও আসামিদের গ্রেপ্তার এবং গৃহবধু ও তার মেয়েকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদীর অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা তাকে টাকার জন্য চাপ দেন এবং ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রায় চার মাস পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অপহরণের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জানুয়ারিতে তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তালাকটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

তালাক রেজিস্ট্রির আগে কীভাবে ওই নারীর পুনরায় বিয়ে রেজিস্ট্রি হলো সে বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মোশারফ হোসেন দাবি করেন, তার স্বাক্ষর ও সিল জাল করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাদীকে আরও একটি সিআর মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাজীর রেজিস্টারে যে তথ্য পাওয়া গেছে, প্রতিবেদনে সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের নামে বাদীর কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মিস পিটিশন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর স্ত্রী’র একটি তালাক ও বিবাহের কপি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এই দীর্ঘ সময় ওই গৃহবধু কন্যাসহ কোথাও ছিলো তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া একতরফা তালাকের নোটিশ দেওয়ার তিনর মাসের মধ্যে অন্যত্র বিয়ে করার কোন উপায় নেই। তাহলে তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর দীর্ঘ তিন মাস ভিকটিম কোথায় কার হেফাজতে ছিলো বা এখনো কোথায় আছে সে বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নেই। যে কারণে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি শুনানীর দরখাস্ত বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Exit mobile version