কুয়েতে চাকরির প্রলোভনে সাতক্ষীরার মিয়ারাজকে অমানুষিক নির্যাতন, দেশে ফেরাতে আকুতি পরিবারের

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের এক যুবককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কুয়েতে চিকিৎসাধীন ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী মিয়ারাজ হোসেনের (২৮) বাবা মো. নেছার সরদার জানান, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে তার ছেলেকে কুয়েতে ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে পাঠানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্রি ভিসা”র কথা বলে স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কুয়েতে পৌঁছানোর পর মিয়ারাজকে একটি পরিবারের অধীনে কাজে দেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো, বেতন না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট কুয়েতে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ারাজ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মো. নেছার সরদার আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কুয়েতে অবস্থানরত তার আত্মীয় খোকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা সহযোগিতা না করে উল্টো হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় জুলেখা বিবি, সুভা পারভীন ও বাবুকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর পরিবার প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিয়ারাজ হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

Exit mobile version