মঙ্গলের শিয়াপারেলি গহ্বরের বিস্ময়কর ত্রিমাত্রিক ভিডিও প্রকাশ

শিয়াপারেলি গহ্বরের ব্যাস ৪৬০ কিলোমিটারের বেশি। বিজ্ঞানজগতের পাশাপাশি কল্পকাহিনীতেও স্থানটি পরিচিত।

মঙ্গল গ্রহের অন্যতম বড় গর্ত শিয়াপারেলির নতুন ও স্পষ্ট ছবি তুলেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) মার্স এক্সপ্রেস মহাকাশযান। কয়েকশ কোটি বছর আগে পানির প্রবাহে গড়ে ওঠা অঞ্চলটির ওপর দিয়ে নিচু কক্ষপথে যাওয়ার সময় মহাকাশযানটি এসব ছবি ধারণ করে। ছবিগুলো দিয়ে গহ্বরটির ত্রিমাত্রিক ভিডিও তৈরি করেছে ইএসএ।

মঙ্গলের দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমির ব্যাপক গহ্বরপূর্ণ এলাকায় শিয়াপারেলির অবস্থান। প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের জলবায়ু বর্তমানের তুলনায় উষ্ণ ও আর্দ্র ছিল। তখনকার পানিপ্রবাহ গ্রহটির এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছে ইএসএ।

শিয়াপারেলি গহ্বরের ব্যাস ৪৬০ কিলোমিটারের বেশি। বিজ্ঞানজগতের পাশাপাশি কল্পকাহিনীতেও স্থানটি পরিচিত। অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস ‘দ্য মার্শিয়ান’ এবং এর চলচ্চিত্র সংস্করণে নভোচারী মার্ক ওয়াটনি এ গহ্বরেই আটকা পড়েছিলেন।

গহ্বরটির নাম রাখা হয়েছে ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী জিওভান্নি শিয়াপারেলির নামে। ১৮৭৭ সালে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসার সময় তিনি গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করে এর পৃষ্ঠের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। মঙ্গলের গায়ে দেখা অন্ধকার রেখাগুলোকে তিনি ইতালীয় ভাষায় ‘কানালি’ বা প্রণালি হিসেবে উল্লেখ করেন। ইংরেজিভাষী জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পরে শব্দটির ভুল অনুবাদ করেন ‘ক্যানাল’ বা কৃত্রিম খাল হিসেবে। এর ফলে মঙ্গলে বুদ্ধিমান প্রাণীর তৈরি অবকাঠামো থাকার ধারণা ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী পর্যবেক্ষণে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মঙ্গলে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, একসময় গ্রহটির পৃষ্ঠে প্রবাহমান পানি ও সক্রিয় জলাধার ছিল।

Exit mobile version