রাজনীতি

হাসনাত আবদুল্লাহ: অর্থ মন্ত্রণালয় কমিটি ‘অলংকারিক’, চিফ হুইপের হস্তক্ষেপে কাজ হচ্ছে না

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যথাযথভাবে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, এমপি। সরকারদলীয় কিছু সদস্য কমিটিকে ‘অলংকারিক কমিটি’ হিসেবে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদে আজ রোববার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত সংস্কার, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্যের অসহযোগিতার কারণে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি যথাযথভাবে কাজ করছে না। সরকারদলীয় কিছু সদস্য এই কমিটিকে অলংকারিক কমিটি হিসেবে নিয়েছেন।’

ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে পোর্ট, ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

চীফ হুইপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এই কমিটির মিটিংয়ে অর্থমন্ত্রী একজন সদস্য। মিটিংয়ের সভাপতি হচ্ছেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুশফিকুর রহমান। এই মিটিংয়ে আরেকজন সদস্য রয়েছেন চিফ হুইপ (সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি)। যিনি মনে করেন উনিই মিটিংয়ের সভাপতি। দেখা যায়, বেশিরভাগ সময় উনি সভাপতিত্ব করেন। উনিই দেখা যায়, মিটিং শেষ করা, মিটিং শুরু করা এবং এক ধরনের মিটিংকে এক ধরনের প্রেশারাইজ করা, এই কাজগুলো উনিই করেন। প্রত্যেকদিন একটা বিষয় বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে আসে নাই। তাড়াতাড়ি করা হোক।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তো এই জিনিসগুলো হচ্ছে একটা অর্থমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির মিটিংয়ে। একটা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা মানে করা হবে না, টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করা হবে না, সেটা খুবই দুঃখজনক।’

এর আগে কাস্টমসের অব্যবস্থাপনা, ঘুষ এবং অটোমেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আপনি ডেনমার্ক থেকে একটা প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছেন। প্রোডাক্টটা যদি আপনার বন্দরের মধ্যে ২ মাস ফেলে রাখা হয়। প্রত্যেকদিন যদি ৫ হাজার ডলার করে জাহাজ ভাড়া দিতে হয়, দুই মাসে ৩ লক্ষ ডলার জাহাজ ভাড়া হয়।  তখন ব্যবসায়ী মনে করে আমি ৩ লক্ষ ডলার এই জাহাজ ভাড়া না দিয়ে বরং এক লক্ষ ডলার ঘুষ দিয়ে পণ্যটি নিয়ে আসি।’

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button