ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন: জয়শঙ্কর বললেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র

চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গতকাল শনিবার বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশকে ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ বিবেচনা করতে হবে এবং একটি ‘অভিন্ন জায়গায়’ পৌঁছাতে হবে।
ঢাকার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়ার দাবিকে তিনি কীভাবে দেখছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে জয়শঙ্কর বলেন, ‘প্রতিবেশী একটি দেশের সঙ্গে আমাদের কী আলোচনা হচ্ছে বা হতে পারে, তা নিয়ে আমি এখানে বসে আলোচনা করতে চাই না। তবে আমি বলতে পারি, যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর করতে হলে সেখানে পারস্পরিক স্বার্থ থাকতে হবে। সম্পর্কটি তাদের জন্যও কাজ করতে হবে, আমাদের জন্যও কাজ করতে হবে।’
জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি বাস্তববাদী। প্রতিবেশীরা শুধু আমার স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করবে—এমনটা আমি আশা করি না। তাদের স্বার্থ কী, সেটি আমাকে যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মান দিতে হবে। একইভাবে, আমিও আশা করি তারাও আমাদের স্বার্থকে গুরুত্ব ও সম্মান করবে। যখন দুই পক্ষ এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে অভিন্ন স্বার্থ বা সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়, তখনই সম্পর্ক ভালোভাবে এগিয়ে যায়। তাই আমি সব প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই বলব, শেষ পর্যন্ত পারস্পরিকতার ওপরই সম্পর্ক টিকে থাকে।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে তলানিতে নেমে যায়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা তৈরি করে। ওই দিনটি ছিল তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্তি। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা; সেখানে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতি বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরেও অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। দুই দেশই বর্তমানে তার ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
প্রতিবেদন: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস





