পাটনায় নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: জলকামান নিক্ষেপ

বিহারের রাজধানী পাটনায় নিয়োগ পরীক্ষা ও চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডাক বাংলো মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।
মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চাকরিপ্রার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে পূর্বঘোষিত মিছিল শুরু করেন। পরে তারা ডাক বাংলো মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে তারা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জলকামান ছুড়লে আন্দোলনকারীদের অনেকে ভিজে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাটনার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডাক বাংলো মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
যেসব দাবিতে আন্দোলন
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে পাটনার গার্দানিবাগ এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এক ধাপে নেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (বিএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন এবং হিন্দি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার কামাখ্যা নারায়ণ সিং বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনার ফল ইতিবাচক। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসবেন, তাদের থামানো হবে এবং সামনে যেতে দেওয়া হবে না।
বিক্ষোভস্থলে কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় এক ধাপের ব্যবস্থা এবং নেগেটিভ মার্কিং বাতিলসহ বিপিএসসি, বিএসএসসি ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে অনশন করলেও সরকার তাদের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসেনি। মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে চলমান বিপিএসসি পরীক্ষাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি উপেক্ষা না করে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তেজস্বী যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এছাড়া রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, এসএসএআই ও ছাত্র যুব সংগ্রাম মোর্চাসহ ১৪টি ছাত্র ও যুব সংগঠনও বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানাতে ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’
বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ হিসেবে মাসিক ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি নিজেদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
এ ছাড়া অনলাইনে অভিযোগ নিবন্ধন এবং তার অগ্রগতি অনুসরণের সুবিধাও থাকবে। এ জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল ও ১১০০ হেল্পলাইন চালুর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য ঘিরেও ক্ষোভ
এর আগে বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক রাজেশ কুমার বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হাতি চলে বাজার, কুকুর ভোকে হাজার’—এই মন্তব্যকে আন্দোলনকারীদের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।
তেজস্বী যাদব ওই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও বাতিলের ঘটনা ঘটলেও দায় নির্ধারণ বা জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত সংলাপ না হলে পাটনায় আন্দোলন আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি





