জাতীয়

নিজ এলাকায় ছাদে সোলার: উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং রুফটপ সোলারের (ছাদে সোলার) ব্যবহার বাড়াতে সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সারা দেশে একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত সার্ভিস প্রোভাইডাররা স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যাবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এতে নতুন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুফটপ সোলার ব্যবসাকে শুধু বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ এবং সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদের অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।

সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার—দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের এই ক্রমবর্ধমান বাজারে যুক্ত করাই উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button