মোহনলালের বিয়ের কাঁটা কে ছিলেন মালায়ালাম সিনেমার সুপারস্টার মোহনলাল

মালায়ালাম সিনেমার সুপারস্টার মোহনলাল। দেশের সীমানা পেরিয়ে তার অভিনয়ের সুখ্যাতি বহির্বিশ্বেও ছড়িয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে সুচিত্রার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। এ জুটির দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় ৪০ বছর। পারিবারিকভাবে বিয়ে করলেও তাদের প্রেম কাহিনি অনন্য। কারণ কাঁটা ছাড়া প্রেম গাঢ় হয় না; তাদের বিয়েতেও ছিল কিছু বাধা-বিঘ্নতা।
অপছন্দের অভিনেতা মোহনলাল
অভিনয় সূত্রে বিয়ের আগে থেকেই মোহনলালকে চিনতেন সুচিত্রা। কিন্তু মোহনলালের অভিনয় পছন্দ ছিল না তার। ‘মঞ্জিল ভিরিঞ্জা পোক্কাল’ সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন মোহনলাল। এমন চরিত্রে অভিনয় করায় সুচিত্রার অপছন্দের তালিকায় যুক্ত হন তিনি। মোহনলালকে নিয়ে সুচিত্রার এটাই ছিল প্রথম প্রতিক্রিয়া। তবে ‘এন্তে মামাতুককুত্তিয়ামাক্কো’ সিনেমাটি দেখার পর অপছন্দের মোহনলালের প্রেমে পড়ে যান। কেবল তাই নয়, সুচিত্রার প্রিয় অভিনেতাও হয়ে উঠেন মোহনলাল।
প্রথম দেখা
‘ক্যান চ্যানেল মিডিয়া’-কে সাক্ষাৎকার দেন সুচিত্রা। মোহনলালের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মোহনলালের সঙ্গে সুচিত্রার প্রথম দেখা হয়। যদিও আগে থেকেই তাদের দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যার ফলে অভিনেতা মোহনলালের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মোহনলালের অভিনয়ের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন সুচিত্রা। ফলে একজন ভক্ত হিসেবেই অভিনেতার সঙ্গে ছবি তুলতে চান। তবে সেই ছবি কখনো তার হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ সুচিত্রার।
এ বিষয়ে সুচিত্রা বলেন, “আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিল। একটি বিয়েতে মোহনলালকে দেখি। সেখানে তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু সেই ছবি কখনো হাতে পাইনি।”
প্রথম সাক্ষাতে সুচিত্রার মনে নাড়া দেন মোহনলাল। পরবর্তীতে মোহনলালকে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান সুচিত্রা। তার সিদ্ধান্তে আপত্তি করেননি পরিবারও। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাদের সম্পর্ক দ্রুত বিয়ের দিকে এগিয়ে যায়।
বাবার সতর্কবার্তা
মোহনলালকে বিয়ে করার ইচ্ছের কথা জানার পর সুচিত্রার বাবা তাকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তা স্মরণ করে সুচিত্রা বলেন, “আমি যখন পরিবারকে বলেছিলাম যে, মোহনলালকে বিয়ে করতে চাই, তখন কেউ আপত্তি করেননি। কিন্তু আমার বাবা আমাকে কিছু পরামর্শ ও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শুটিংয়ের কারণে মোহনলাল অনেক দিন বাড়ির বাইরে থাকবে। বিবাহিত জীবনে এসব বিষয় মাথায় রেখো। তুমি যদি একজন অভিনেতাকে বিয়ে করো এবং এসব সমস্যার কারণে বাড়ি ফিরে আসো, তাহলে সেটা মেনে নেব না।”
মোহনলাল-সুচিত্রার বিয়ে
সব সংকট কাটিয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়েন মোহনলাল ও সুচিত্রা। ১৯৮৮ সালের ২৮ এপ্রিল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। মোহনলালের নিজ শহর তিরুবনন্তপুরমের মুদাভানমুগালে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ দম্পতির সংসার আলো করে জন্ম নিয়েছেন দুই সন্তান। পুত্র প্রণব মোহনলাল বাবার মতো অভিনয়ে পা রেখেছেন।
স্ত্রীর প্রতি মোহনলালের সম্মান
স্ত্রী সুচিত্রাকে প্রচন্ড সম্মান করেন মোহনলাল। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুচিত্রা তার বাবার সঙ্গে মোহনলালের একটি ঘটনা ভাগ করে নেন। সুচিত্রা বলেন, “আমার বাবা মোহনলালকে বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ের এত যত্ন নিয়ে তুমি ওকে বিগড়ে দিয়েছো।’ মোহনলাল জবাবে বলেছিল, ‘যাই হোক না কেন, আপনি যেভাবে মেয়ের যত্ন নিতে পারেন, আমি সেভাবে পারি না।”
*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে





