হরিরামপুরে ছাত্রদল নেতার অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা, সংবাদ প্রকাশে বিএনপি নেতার বাধা

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঝিটকা খাজা রহমত আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ জিকুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোপীনাথপুর চরপাড়া এলাকায় একটি পুকুর থেকে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন করে পাশের একটি জমি ভরাট করা হচ্ছে। এতে আশপাশের জমি ভাঙন ও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জিকু। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এই প্রতিবেদককে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় রতন মিয়া ওরফে বাচ্চু মিয়ার পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা মাটি ওয়াজেদ আলীর জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে এভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

পুকুরের মালিক রতন মিয়া বলেন, ছাত্রদল নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জিকুর কাছে প্রতি ঘনফুট মাটি দুই টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে ড্রেজার দিয়ে পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই মাটি পাশের ওয়াজেদ আলীর জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদদে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, নিয়ম না মেনে পুকুর থেকে মাটি কাটার কারণে আশপাশের জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জিকুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মাটি ফেলার ট্রলি গাড়ির ব্যবসা করি। ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিজা বীসরাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের ব্যানারে থেকে কোনো ধরনের অপকর্ম বা অবৈধ ব্যবসা করার সুযোগ নেই। ছাত্রদলের ব্যানারে থেকে ড্রেজার ব্যবসারও সুযোগ নেই। কারও ব্যক্তিগত দায় সংগঠন নেবে না। কেউ ছাত্রদলের ব্যানারে থেকে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Exit mobile version