বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সীতাকুণ্ডে অস্ত্র হাতে যুবক: কারা তারা, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে দুই যুবককে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তাদের অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা দুই যুবকের একজনের নাম সিরাজ এবং অন্যজনের নাম সাদেক বলে জানা গেছে। তবে তারা বিএনপির কোন পক্ষের অনুসারী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের দাবি, অস্ত্রধারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং তাদের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নীল রঙের পাঞ্জাবি ও জিনস পরা এক যুবককে হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে লাল টি-শার্ট পরা আরেক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন, সংঘর্ষের সময় এত অস্ত্র কোথা থেকে এলো এবং সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ।

পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের মুনস্টার ক্লাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি পালনের সময় নির্ধারণ করে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের দুপুর ২টার দিকে কর্মসূচি শুরুর কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৯টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাবে অবস্থান নেন।

এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। পরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে যাওয়ার সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময়ই সিরাজ ও সাদেককে অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর ভূঁইয়া দাবি করেন, অস্ত্রধারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী। তাদের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া আসলাম চৌধুরীর অনুসারী রোকন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় মিছিলে দেখা গেছে। তার পাশে গোলাপি রঙের একটি ব্যাগও ছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যাগে আধুনিক বিদেশি অস্ত্র থাকতে পারে। তবে ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রোকনের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় ৬০ লাখ টাকার অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়। তবে ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির আদর্শ পালন করতে হলে কখনো অস্ত্র দিয়ে তা করা সম্ভব নয়। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা যেভাবে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, এটি শুধু সীতাকুণ্ডের জন্য নয়, দলের জন্যও বিপজ্জনক।’ অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে আসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী মোহাম্মদ আলীর কাছে পৌরবাসী জিম্মি হয়ে আছে। বিভিন্ন দোকান থেকে পণ্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগও করেন তিনি।

আসলাম চৌধুরী দাবি করেন, কাজী সালাউদ্দিন ও তার অনুসারীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে যে কর্মকাণ্ড করেছেন, তা দলকে খুশি করার জন্য নয়; বরং দলের নির্দিষ্ট কয়েকজনকে খুশি করার জন্য তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বানচালের পেছনে একজন মন্ত্রীর ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

পুলিশ বলছে, সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি অস্ত্র প্রদর্শনকারীদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Exit mobile version