মালয়েশিয়া হাইকমিশনে জামায়াতের নায়েবে আমিরের প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে পাসপোর্ট জটিলতা, শ্রমিক নিয়োগ, অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন দেশটিতে সফররত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
গতকাল বুধবার তিনি হাইকমিশনে পৌঁছলে কমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হাইকমিশনের কার্যক্রম ও প্রবাসীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
আলোচনায় হাইকমিশনার জনাব মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ৮ থেকে ১৫ লাখ অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ সময় হাইকমিশনার অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে আরো জানান, মালয়েশিয়ায় মোট ৩৭টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বিভিন্ন দেশের আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে ১৭টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখানে প্রায় এক হাজার ৯০০ জনের মতো বাংলদেশি বন্দি আছে। তাদের আইনি সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বলা হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি আলোচনা করা হয় না; বরং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ায় প্রায় আড়াই হাজার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সেখানকার বাংলাদেশী নারী শ্রমিক ও তাদের আত্বসম্মান নিয়ে জানতে চাইলে হাইকমিশনার জানান, নারীদের জন্য দক্ষ ও অদক্ষ-উভয় ধরনের কর্মসংস্থানের ভিসা বর্তমানে সীমিত বা অনুপস্থিত রয়েছে।
বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার বর্তমান সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে আরো কার্যকরভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, আপনারা এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সুতরাং এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের মানুষের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আপনাদের যে কোনো সহযোগিতা লাগবে আমরা করতে প্রস্তুত। মালয়েশিয়া সংক্রান্ত একটা নির্ভুল তথ্য বাংলাদেশ সরকার এবং বিরোধী দলকে সরবরাহ করার জন্য বলেন তিনি।
দালালদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য এবং টাকা-পয়সার সংক্রান্ত ঝামেলা যেন না হয় আর শ্রমিকদের মালয়েশিয়াতে আসার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার জন্য হাইকমিশনকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বলা হয়।





