নিজের মনের কথা রাখঢাক না করে বলতে বরাবরই স্বচ্ছন্দ অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের নানা বৈষম্য নিয়েও মাঝেমধ্যে সরব হন তিনি। এবার নারীকেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে প্রচলিত দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।
তাপসীর অভিযোগ, পুরুষ তারকাদের অ্যাকশন সিনেমার গল্প দুর্বল হলেও দর্শকের হাততালি থামে না। অথচ একই ধরনের সিনেমায় কোনো নারীকে অ্যাকশন করতে দেখলেই শুরু হয় খুঁত ধরার প্রতিযোগিতা। মেয়েদের ক্ষেত্রে যেন সামান্য ভুলেরও ক্ষমা নেই।
‘বেবি’ ও ‘নাম শাবানা’র প্রায় এক দশক পর আবারও পুরোদস্তুর অ্যাকশন অবতারে ফিরছেন তাপসী। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘গান্ধারী’।
সিনেমাটি মুক্তির আগে নারীকেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমার সংকট ও চলচ্চিত্রশিল্পের বাস্তবতা নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাপসীর মতে, বড় পর্দা ও ওটিটি—দুই মাধ্যমেই তিনি অ্যাকশন করেছেন। তবে নারীকেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমা নির্মাণের পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো বাজেট।
তাঁর ভাষায়, অ্যাকশন সিনেমা নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। অথচ মেয়েদের কেন্দ্র করে তৈরি সিনেমায় প্রযোজকেরা তুলনামূলকভাবে কম অর্থ বিনিয়োগ করতে চান। কারণ তাঁদের ধারণা, এসব সিনেমার দর্শকসংখ্যা পুরুষ তারকাদের সিনেমার মতো হয় না।
তাপসীর মতে, বিষয়টি বারবার পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়েছে বলেই নির্মাতাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একধরনের দ্বিধা কাজ করে।
পুরুষ ও নারী তারকাদের সিনেমা বিচারের এই ভিন্ন মানদণ্ডই সবচেয়ে বেশি ভাবায় তাপসীকে। কারও নাম উল্লেখ না করে সাম্প্রতিক পুরুষকেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মাঝারি মানের গল্প, পরিচিত ছক, ঝলমলে অ্যাকশন ও বিপুল আয়োজন থাকা সত্ত্বেও এসব সিনেমা বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকা আয় করে।
অন্যদিকে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার ক্ষেত্রে সামান্য দুর্বলতাও যেন পুরো সিনেমার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাপসীর ভাষায়, ‘এক তো তোমাকে কম টাকা দিয়েছি, তার ওপর তুমি ভুল করছ! কিন্তু ছেলেদের অ্যাকশন সিনেমা হলে যেন সাত খুন মাফ।’
এমন এক বাস্তবতার মধ্যেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাপসীর নতুন সিনেমা ‘গান্ধারী’। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। তাপসী পান্নু ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন ইশওয়াক সিং, ছায়া কদম, মিতা বশিষ্ট ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
