না ফেরার দেশে চলে গেলেন জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদি

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পেজের এক পোস্টে বলা হয়, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।’
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে বিজয়নগর বক্সকালভার্ট রোডে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি করে পালিয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ওই রাতেই অর্থাৎ হাদিকে গুলি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখও তার সঙ্গে ছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল ও আলমগীর দুজনিই এখন মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তারা এখন বাংলাদেশের সিমও ব্যবহার করছেন না। ভারতের সিম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন চালাচ্ছেন তারা। তবে সেটাও সব সময় না। বেশিরভাগ সময় তাদের ফোন বন্ধই পাওয়া যাচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, শরীফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নরসিংদী সদর থানার তরুয়া এলাকার মোল্লাবাড়ির সামনের তরুয়া বিলের পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম, অবস্থান ও চলাচলের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ডিএমপির পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাদির ওপর গুলিবর্ষণে কার কী ভূমিকা ছিল এবং নেপথ্যে কারা জড়িত—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ পর্যন্ত র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন— ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আবদুল হান্নান, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরন দিও, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মোটরসাইকেলের মূল মালিক মো. কবির এবং ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মৎ হাসি বেগম। এদের মধ্যে আবদুল হান্নানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া কবিরকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।





