জাতীয়ডিফেন্স খবর

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি

সামরিক ড্রোন কারোখানা স্থাপনে চীনের সাথে জি টু জি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগে গত ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় “ইস্টাবলিশমেন্ট অফ ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট এন্ড ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি (টিওটি) ফর আনম্যানড এরিয়াল ভ্যাহিকেল (ইউএভি)” শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাজেট ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

জানা যায়, চার অর্থবছরে চুক্তির এই টাকা পরিশোধ করা হবে। তবে এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয় নি। তিনি বলেন, “কোন দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা হবে- এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তাই এখনই কিছু বলছি না। সবকিছু আগে চূড়ান্ত হোক।” প্রকল্প অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি দেশে ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অনুমোদন দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিমানবাহিনীর জন্য বাজেটে বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না, বরং প্রতিবছর “অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি” খাতের বরাদ্দ দিয়ে ব্যয় সম্ভব। এর আগে, সশস্ত্রবাহিনী গঠিত যৌথ কমিটি ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর বা ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৮-২৯ পর্যন্ত পরিশোধের শর্তে ড্রোন কারখানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় জানানো হয়, চীনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে ইউএভি/ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে।

পাঁচটি শর্তে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটের মধ্যে ব্যয় সম্পন্ন করা, আগামী অর্থবছর থেকে ২০২৮-২৯ পর্যন্ত বরাদ্দ বাজেটের সীমার মধ্যে রাখা, আর্থিক বিধি-বিধান প্রতিপালন, এলসির মাধ্যমে ব্যয় করা এবং অন্য খাতে অর্থ ব্যবহার না করা। প্রাথমিকভাবে চীনের সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল ৬৪৩.৬১ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিমানবাহিনী কর্মকর্তাদের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিমূল্য ৩৫.৫৩ কোটি টাকা কমিয়ে ৬০৮.০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button