
এম এ নকিব নাছরুল্লাহ্,
পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানি) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, মাসুদ সাঈদী ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ১০৫ ভোট। অর্থাৎ, মোট ২৫ হাজার ৫৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন সাঈদী।
ইন্দুরকানিতে বিপুল ব্যবধান নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী ও বয়স্ক ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জামায়াত প্রার্থীর ভোটের পাল্লা ভারী হয়েছে। বিশেষ করে নিজ উপজেলা ইন্দুরকানিতে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন মাসুদ সাঈদী। এই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২৯টি কেন্দ্রে ৬৩ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। এখানে মাসুদ সাঈদী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৯৩ ভোট, যেখানে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১২ হাজার ৬৪৫ ভোট। অর্থাৎ নিজ উপজেলা থেকেই তিনি ২০ হাজার ৯৪৮ ভোটের বিশাল লিড পান। রাজনৈতিকভাবে এই উপজেলাটি বিএনপি-জামায়াতের সমান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার ধানের শীষের প্রার্থী এখানে অনেক পিছিয়ে পড়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী আলমগীর হোসেনের নিজ এলাকা পিরোজপুর সদর উপজেলাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ধানের শীষ। সেখানেও মাসুদ সাঈদী ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। নিজ এলাকায় আশানুরূপ ভোট না পাওয়ায় আলমগীর হোসেনের ভোটের হিসেবে বড় বিপর্যয় ঘটে। তবে হিন্দু অধ্যুষিত অপর উপজেলা নাজিরপুরে বিএনপি প্রার্থী ৫৪ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে সাঈদীর (৪৫ হাজার ৬৪১ ভোট) চেয়ে ৮ হাজার ৫১৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু অন্য দুই উপজেলার বিশাল ব্যবধানের কাছে তা জয়ী হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, মাসুদ সাঈদীর পিতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ব্যক্তিগত ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকেই পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁর পিতা। এবার পিতার সেই আসনেই প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে বড় জয় পেলেন মাসুদ সাঈদী। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন।
বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের সকল ভোটারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আসনের ১৬৮টি কেন্দ্রে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।





