নওগাঁ

মান্দায় রফিকুল হত্যা মামলায় চিহ্নিত আসামী রেখে অজ্ঞাতনামা আসামী করে পুলিশের মামলা

আকতারুজ্জামান নাইম

নওগাঁর মান্দায় রফিকুল হত্যার ঘটনায় আসামীর জবানবন্দি স্পষ্ট হলেও থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে মামলার বাদী (নিহতের ছেলে) সাকিব হোসেন নিজেও জানে না কার নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, মামলার সব বিষয়ে এলাকার সম্পর্কে চাচা মান্নান ও পুলিশ জানেন। আমি শুধু এজহারে স্বাক্ষর করেছি। গত বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলায় প্রসাদপুর ক্বওমী মাদ্রাসা চত্বরে কয়েকজন শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি মারা যান।

নিহত যুবকের নাম রফিকুল ইসলাম (২৫)। তিনি মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নিহত রফিকুল ইসলামের হাত বাঁধা মরদেহ মাদ্রাসা চত্বর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান পুলিশ।

এদিকে হত্যাকারীদেরকে বাঁচাতে ও ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মামলার বাদীর অজান্তে অজ্ঞাত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের সময় মান্দা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওনের কাছে জনসম্মুখে হত্যাকারী সাব্বির হোসেনের জবানবন্দি স্পষ্ট হওয়ার পরও কোন অদৃশ্য কারণে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়েছে। এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মামলার এজাহারে কি লেখা আছে তা স্পষ্ট ভাবে জানেনা নিহতের ছেলে সাকিব। একমাত্র অভিভাবক বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। পুলিশের এমন কান্ডে এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। হত্যার দিন সন্ধ্যাবেলা থেকে মাদ্রাসা বন্ধ করে পালিয়েছে পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমানসহ অন্য শিক্ষকরা।

স্থানীয় মুসল্লি ও প্রসাদপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আকতারুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। মাদ্রাসার বাউন্ডারীর ভিতরে মসজিদ থাকায় জুম্মা তারাবি ও ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায়ে বিলম্বনার শিকার হচ্ছে মুসল্লিরা।

নিহতের প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ বলেন,মানুষ অপরাধ করতে পারে কিন্তু মানুষকে হত্যা করা ঠিক হয়নি।এটা দেশের আইনেও নাই, ইসলামেও নাই।

এ,ব্যাপারে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী সাকিব হোসেন আরো বলেন,আমি স্ত্রীর করা মামলায় কারাগারে ছিলাম।বাবার মৃত্যুর দিন সন্ধ্যায় জামিনে বের হয়ে আসি। আমি এসে শুধু বাবাকে মাটি দিতে পেরেছি।মামলার বিষয়ে কোনকিছু জানিনা। আমার কাছ থেকে পুলিশ এজাহারে স্বাক্ষর করে নিয়েছে।
এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে হত্যাকারীদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি।

মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে,এম,মাসুদ রানা বলেন,হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে হত্যাকারীদের স্পষ্ট জবানবন্দি দেওয়ার পরও কিভাবে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা হয়েছে,এমন প্রশ্নে তিনি বাদীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। লাশ উদ্ধারের দিন কমপ্লিট মার্ডার বলে জবানবন্দি দিয়েছিলেন এই ওসি মাসুদ কিন্তু মামলা ক্ষেত্রে বিপরীত আচরন করছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button