যুদ্ধ শুরুর মোটামুটি ১০ দিন পার হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণের মুখেও ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং বেশ ভালোভাবেই দেশটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও এখনও ভেঙে পড়েনি শাসনব্যবস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা জটিল ক্ষমতার কাঠামো এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে একজন নেতার মৃত্যু হলেও পুরো ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে।
সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রবল আক্রমণ শুরু হওয়ার পর ১০ দিন অতিবাহিত হতে চললেও এখনও ইরানের রাস্তায় বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি। সম্ভবত বিরোধীরা অপেক্ষা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চালিয়ে যাবে কি না, তা দেখার জন্য। কারণ হঠাৎ করে ওয়াশিংটন যদি পিছু হটে, তাহলে সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রযন্ত্রের দমনপীড়নের মুখোমুখি হয়ে পড়তে পারেন।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে— সংঘাতের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও কেন ইরানের শাসনব্যবস্থা লিবিয়া, সিরিয়া বা ইরাকের মতো ভেঙে পড়েনি? এর প্রধান কারণ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা এক জটিল শাসন কাঠামো। মূলত ওই শাসন কাঠামো ভেতর বা বাইরে থেকে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।
এই ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনভাবে গড়া হয়েছে যাতে পুরো শাসনব্যবস্থা কোনও এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়। ফলে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলেও পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে না। এছাড়া ক্ষমতা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই যুদ্ধের মধ্যেও ঠিকই কোনও না কোনোভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
আর ইরানের মতো এ ধরনের সরকার কাঠামো পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না।
