কক্সবাজারের আম্মাজান শো রুমে গলাকাটা বাণিজ্য, প্রতারণায় ঠকছে গ্রাহক!

কক্সবাজারে মানহীন পণ্যে অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নিচ্ছে কথিত ব্র্যান্ড “আম্মাজান” আউটলেট। মানহীন রেডিমেড পাঞ্জাবীতে মনগড়া প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে ইচ্ছামত দাম আদায় করছে এরা। চটকদার প্রচার প্রচারনা ও বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে ১০/১২ রমজান থেকে জমজমাট বিকিকিনি শুরু করেছে। তবে “একদাম” স্টীকার লাগিয়ে বিক্রি করা পায়জামা-পাঞ্জাবি’র দামের সাথে মানে বিস্তর ফারাক বলে জানিয়েছেন ভোক্তা-ক্রেতারা।
কক্সবাজার শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের সামনের মার্কেটের দোতলায় “আম্মাজান” ব্র্যান্ডের এয়ার কন্ডিশন্ড আউটলেটে গিয়ে দেখা যায় গ্রাহকদের ভীড় । কাউন্টারে ইউনিফর্মধারী সেলসম্যানরা ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শহরের বাহার ছড়া থেকে আসা ক্রেতা ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, পাঞ্জাবীর গায়ে সাঁটানো ফিক্সড প্রাইজ স্টীকারে হাঁকানো ৬৭০০ টাকা দামের চেয়ে কাপড়ের মান কম। তাই না নিয়েই চলে যাচ্ছেন তিনি।
কলাতলী থেকে আসা মাহমুদুল হক বলেন, বাজারে বিদ্যমান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবীর চেয়ে এখানে মূল্য বেশী বলে মনে হয়েছে।
শহরতলীর নুনিয়াছড়ার ক্রেতা জালাল বলেন, বাহারী শো রুমের ভাড়া ও সালামী, বিদ্যুৎ বিল এবং আনুসাঙ্গিক খরচ তুলতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নেই।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন বলেন, উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে আম্মাজান শো রুমে বিদেশি ও ব্র্যান্ডেড পণ্যের নামে গলাকাটা বাণিজ্য চলছে।
বাহারি প্রচারণা ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে অনেক পণ্যে ভুয়া ব্র্যান্ড ট্যাগ লাগিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ঈদের বাজারকে ঘিরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রকাশ্য প্রতারণা চলছে জানিয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ভোক্তারা বলেন, এসব শো রুমে সারা বছর তেমন বেচা বিক্রি থাকেনা। কেবলমাত্র ঈদ মৌসূমে ১০/১৫ দিন ব্যবসা করে এরা সারা বছরের খরচ তুলে নেয়, তাই দাম তুলনামূলকভাবে বেশী।
ক্রেতাদের কথার সত্যতা মিলেছে সরেজমিন পরিদর্শনেও।শো কেস ও তাকজুড়ে সাজিয়ে রাখা পাঞ্জাবি পায়জামার সাথে প্যাকেটে সাঁটানো ফিক্সড প্রাইজ স্টীকারের প্রিন্টেড দাম বেশী বলেই মনে হয়েছে ।
এসব পায়জামা পাঞ্জাবী কোথা থেকে আনা হয় জিজ্ঞেস করলে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত হয় বলে দাবী করেন কাউন্টারে দায়িত্বরত ম্যানেজার। তবে কারখানার লোকেশন দিতে পারেননি তিনি।
উপরোক্ত সব ব্যাপারে কথা হয় আম্মাজান শো রুমের সত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বাবুলের সাথে। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বাজারে প্রচলিত অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে তাদের পণ্যের কোয়ালিটি ভাল৷ কয়েকদিন আগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টীম এসে পরিদর্শন করে কোন অসঙ্গতি পায়নি বলেও দাবী করেন তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টীম আম্মাজান শো রুমে অভিযানে গেলে তিন ঘন্টা দেন দরবার শেষে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে ফিরে যায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মোঃ হাসান আল মারুফ ফোন রিসিভ না করায় উপরোক্ত সব ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।







