সৌদি আরবে প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ চুরি ও বন্ধ ব্যাংক একাউন্টে চেক দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

নুর রাব্বি: সৌদি আরবে প্রবাস জীবনে গিয়ে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ। একই ইউনিয়নের কাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার পরিকল্পিতভাবে তার কষ্টার্জিত অর্থ চুরি করে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর একাধিকবার আশ্বাস, ভিডিও স্বীকারোক্তি ও ব্যাংকের চেক দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত ভুক্তভোগী তার টাকা ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল্লাহ জানান, জীবনের সর্বস্ব সঞ্চয় ও ধারদেনা করে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান জীবিকার আশায়। সেখানে অবস্থানকালে একই ইউনিয়নের পরিচিতজন হিসেবে তার সঙ্গে পরিচয় হয় হাসান শিকদারের ছোট ভাই মো. আনোয়ারের। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে আনোয়ার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহর রুমে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদিন সুযোগ বুঝে আনোয়ার আব্দুল্লাহর রুম থেকে ২০০০ সৌদি রিয়াল চুরি করে পালিয়ে যায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬৫ হাজার টাকা। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর অনেক কষ্টে অভিযুক্ত আনোয়ারকে খুঁজে বের করেন।
পরবর্তীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত একই এলাকার একাধিক প্রবাসীর উপস্থিতিতে একটি সমাধান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত আনোয়ার সবার সামনে টাকা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“আমি টাকা নিয়েছি, আমি টাকা দিয়ে দেব।”
এই সমাধান বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন, যেখানে তারা জানান—আনোয়ার নিজ মুখে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং দ্রুত ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।
বিশ্বাসযোগ্যতা দেখানোর জন্য আনোয়ার ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহকে একটি ভিডিও স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং একইসঙ্গে একটি ব্যাংক চেক হস্তান্তর করে। তবে ভুক্তভোগী পরবর্তীতে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন—চেকটি যে ব্যাংক একাউন্টের, সেটি আগেই বন্ধ। এতে প্রতারণার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাহাব উদ্দীনের কাছে যাওয়া হয়। পারিবারিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাহাব উদ্দীন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাহাব উদ্দীন তাকে আশ্বস্ত করে বলেন,
“এই বিষয় নিয়ে আর কোথাও কথা বলার দরকার নেই। এক সপ্তাহের মধ্যেই টাকা পরিশোধ করা হবে।”
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। বরং এর আগেই দেওয়া চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন—সেটিও বন্ধ একাউন্টের।
এদিকে অভিযুক্ত আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “সে আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার জন্য আমাদের একাধিকবার জরিমানা দিতে হয়েছে। প্রতিবার তার দায় আমরা নিতে পারি না। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত আনোয়ারের এক ভাই মাহবুবুর রহমান, যিনি কাতার প্রবাসী, মুঠোফোনে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান,
“আর কোথাও বিচার দিতে হবে না। এক মাসের মধ্যে আমি নিজেই টাকা দিয়ে দেব।”
কিন্তু এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “আমার কাছে অভিযুক্তের ভিডিও স্বীকারোক্তি আছে, সমাধান বৈঠকে থাকা লোকজনের ভিডিও বার্তাও আছে, এমনকি একটি ব্যাংক চেকও আছে—যেটা পরে বন্ধ একাউন্টের বলে প্রমাণিত হয়েছে। বারবার আশ্বাস দিয়ে আমাকে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি শুধু আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ ও বন্ধ ব্যাংক একাউন্টের চেক দিয়ে প্রতারণার মতো ঘটনা গুরুতর অপরাধের শামিল। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগীর অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।





