যশোরে নারী কুপিয়ে লুটপাট, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

যশোরের ঝিকরগাছায় এক নারীকে কুপিয়ে জখম, স্বর্ণালংকার লুট ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী আসামিদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী মুর্শিদা আক্তার রেনুকা।
শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। মুর্শিদা আক্তার ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের মনিরুজ্জামান মনিরের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুর্শিদা আক্তার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে তার পিত্রালয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে রান্নাঘর মেরামতের কাজে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ৬ আনা ওজনের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মুর্শিদা আক্তার বলেন, “হামলার পর আমি ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এই ঘটনায় আদালতে মামলা (জি.আর-৪৬/২৫) করলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন।”
তার অভিযোগ, মামলার মূল আসামি ইসমাইল হোসেন, তার ছেলে সাকিব হোসেনসহ প্রভাবশালী ৫-৬ জনকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি মামলার অন্যতম আসামি তামজিদ আদালত থেকে জামিন না নিয়েই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। প্রধান আসামি ইসমাইল ও তার ছেলে সাকিব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দেশে থাকা অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। মুর্শিদা আক্তার এই মামলার পুনঃতদন্ত এবং সকল আসামির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিলের জন্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বাবা ইজ্জত আলী, স্বামী মনিরুজ্জামান মনির, বোন নুরুন্নাহার, ভাই শাহ আলমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।







