পুলিশ হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু, ওসি প্রত্যাহার

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭) মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ‘সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন; অফিসার-ইনচার্জ, ডিবি, সদর জোন, ফরিদপুরকে প্রশাসনিক কারণে ডিবি, সদর জোন হতে প্রত্যাহার করা হলো।’
আদেশে ২৩ জুন দুপুর ১টার মধ্যে তাকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাজির হতে বলা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামির বসতবাড়ির পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ের হাজতে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তবে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে আটক করে তার মায়ের সামনেই মারধর করে। পরে রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে থাকাকালীন তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা ৪০ মিনিটের জন্য ঢাকা খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে মৃত ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন।





