তামিলনাড়ু বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনা: মুখ্যমন্ত্রীর আসন ছেড়ে মন্ত্রীদের পাশে বসলেন

তামিলনাড়ু বিধানসভার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে নজিরবিহীন দৃশ্যের জন্ম দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অপরাহ্ন অধিবেশন চলাকালে নিজের জন্য নির্ধারিত আসন ছেড়ে প্রথম সারিতে গিয়ে মন্ত্রীদের পাশে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এমন আসন পরিবর্তনকে ঘিরে বিধানসভায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় সাধারণত স্পিকারের আসনের কাছাকাছি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট একটি আসন থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মন্ত্রীরা বসেন। বিপরীত সারিতে থাকেন বিরোধী দলের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ব্যবস্থার ব্যতিক্রম দেখা গেল বৃহস্পতিবার।
অধিবেশন চলাকালে স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের ডান পাশে থাকা নিজের নির্দিষ্ট আসন থেকে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় প্রথম সারিতে গিয়ে বসেন। সেখানে তিনি সভার প্রধান কে এ সেনগোট্টাইয়ান এবং মন্ত্রী আধব অর্জুনের মাঝে আসন নেন।
বিধানসভা সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন ছেড়ে এভাবে অন্যত্র গিয়ে বসার ঘটনা তামিলনাড়ু বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফলে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে একই দিনে অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় বিভাগীয় সচিবদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। কারুর পদদলিত হওয়ার মতো একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, মুখ্য সচিবসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিধানসভায় উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু বর্তমান অধিবেশনে সেই প্রশাসনিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।
বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আধব অর্জুন বলেন, কর্মকর্তারা বিধানসভার পাশেই থাকা যুদ্ধকক্ষে উপস্থিত রয়েছেন। তারা বিধায়কদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নোট করছেন।
তবে এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন স্পিকার জেসিডি প্রভাকর। তিনি জানান, অধিবেশন চলাকালে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিধানসভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত আসন ছেড়ে মন্ত্রীদের পাশে বসা, অন্যদিকে অধিবেশনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশন ছিল বেশ আলোচিত।





