পশ্চিমবঙ্গে আজ মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোট নেয়া হচ্ছে। এই দফায় ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মূলত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট গ্রহণ পর্বে যে আসনটির দিকে সবার নজর রয়েছে, তা হলো কলকাতার ভবানীপুর। এই এলাকাতেই মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। তিনি এবারও লড়ছেন এই আসন থেকে।
তবে এবারের ভোটযুদ্ধ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মাঠে’ এবারে তার মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির শুভেন্দু অবশ্য পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকেও প্রার্থী হয়েছেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনে অর্থাৎ ২০২১ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। সেবার ওই আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের নির্বাচনে তারা ফের মুখোমুখি হয়েছেন কলকাতার ভবানীপুরে।
দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট গ্রহণ পর্বে ভোট হচ্ছে নদিয়ার ১৭টি, উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি, কলকাতার ১১টি, হাওড়ার ১৬টি, হুগলির ১৮টি এবং পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪১ হাজার একটি। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৩০১টি প্রধান বুথ এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সহায়ক বুথ রয়েছে।
সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করতে সচেষ্ট কমিশন। তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ আগে থেকে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে তেমনই কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো।
জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, পুলিশের তল্লাশি অভিযান চলছে। অশান্তির অভিযোগে ধরপাকড়ও চলছে।
এদিকে দ্বিতীয় ও শেষ দফা ভোট গ্রহণের আগে নদীয়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ভোটের দিন যাতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা না দেখা দেয় সে জন্য কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের বাড়তি হার দ্বিতীয় দফাতেও অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাজ্যের সাত জেলার ১৪২ আসনে সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৮.৩৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার পূর্ব বর্ধমানে। সবচেয়ে কম দক্ষিণ কলকাতায়। প্রথম দু’ঘণ্টার ভোটদানের হারে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফা সামান্য পিছিয়ে রয়েছে।
প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১৮.৭৬ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সাত দফাতে সকাল ৯টা পর্যন্ত যে ভোটদানের হার ছিল, তার থেকে এ বারের দুই দফাই অনেকটা এগিয়ে।
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় বুথের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৭৬টি। কমিশন জানিয়েছে, মোট ৩ কোটি ৩৬ লাখ ভোটার ভোটদান করেছেন। অর্থাৎ ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাজ্যের ১৮২টি বুথে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে এমন বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চোপড়া এবং রানিনগরে।





