জাতীয়

গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মসজিদ সংস্কার ও পরিচালনায় বড় অবদান রাখেন প্রবাসীরা: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন,‌ গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মসজিদ সংস্কার ও পরিচালনায় বড় অবদান রাখেন প্রবাসীরা।

শুক্রবার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মসজিদে গেলেই একটি সমাজ, গ্রাম, বাড়ি-মহল্লা কিংবা গলির সামগ্রিক সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো খুব কাছ থেকে অনুধাবন করা যায়। একটি এলাকার মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সবকিছুর প্রতিফলন অনেকাংশে সেই এলাকার মসজিদকেন্দ্রিক পরিবেশে ফুটে ওঠে।

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মসজিদের খেদমত, সংস্কার ও পরিচালনার পেছনে বড় একটি অবদান রাখেন প্রবাসীরা। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ শুধু মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, বরং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যে এলাকা অর্থনৈতিকভাবে যত বেশি সমৃদ্ধ, সাধারণত সেই এলাকার মসজিদে তত বেশি শিক্ষিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও আলেমে দ্বীন দেখা যায়। উন্নত পরিবেশ, পর্যাপ্ত সম্মানী ও সামাজিক মর্যাদা থাকলে যোগ্য আলেমরাও গ্রামে কাজ করতে আগ্রহী হন।

ফলে সেখানে শুধু নামাজ বা ওয়াজ মাহফিলই নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা, শিক্ষা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে গভীর কাজ করা সম্ভব হয়। একজন ভালো আলেম অনেক সময় একটি গ্রামের নৈতিক দিকনির্দেশক হয়ে ওঠেন। একইভাবে একজন ভালো ডাক্তার, শিক্ষক কিংবা দক্ষ পেশাজীবী যদি গ্রামে থেকে সেবা দেওয়ার পরিবেশ ও সম্মান পান, তাহলে গ্রামের সামগ্রিক জীবনমানও বদলে যেতে পারে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব ও কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়নের কারণে অধিকাংশ মেধাবী মানুষ শহরমুখী হয়ে পড়েন। তাই শুধু ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্র ও সমাজ, উভয়েরই দায় রয়েছে। গ্রামকে পিছিয়ে রেখে একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়া অত্যন্ত কঠিন।

পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হোক গ্রাম থেকে। গ্রাম বাঁচলে সমাজ বাঁচবে, সমাজ বাঁচলে দেশ এগোবে। কারণ বাংলাদেশের আত্মা এখনো গ্রামেই বাস করে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button